
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত কোনো আপোষ করবে না। দলের শীর্ষ নেতারা হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে জীবন দিয়েছেন, কিন্তু আদর্শের প্রশ্নে আপোষ করেননি। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াত পিছপা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রোববার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সংসদে সমাধান হলে ভালো, না হলে রাজপথে আন্দোলন চলবে। গণরায়ের বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করেই ছাড়বো।”
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এলেও জুলাই সনদ এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করেছে। তবে জাতীয় স্বার্থে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “নির্বাচন সুন্দর হয়েছে, কিন্তু ফলাফল সুন্দর হয়নি। ফলাফলে কারসাজি হয়েছে বলে এখন অনেকেই স্বীকার করছেন।” তিনি দাবি করেন, ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলে দেশে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা ছিল।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপোষ করা হবে না। সীমান্তে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ-এর দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিক বলেন, এটি বাংলাদেশের পুলিশের নয়, বরং ইন্টারপোলের সাফল্য। তবে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা চরমপন্থা বা গরমপন্থা নয়, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবো। সংসদকে কার্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।”
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বাজেটে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। একই সঙ্গে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
পুশইন ইস্যুতে তিনি বলেন, সীমান্তে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা আমীর হাবিবুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।